How to Stop Smoking Immediately (Part-I)
১। ভূমিকা। যারা সিগারেট খায় তারা কিভাবে সহজে তা বাদ দিতে পারে, সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। আমি নিজে দীর্ঘদিন প্রায় পনেরো বছর দিনে ১০/১৫ টি করে ধুমপান করতাম। এই নিয়ম অনুসরণ করে ২০১৮ সাল হতে সিগারেট খাওয়া বাদ দিতে সক্ষম হয়েছি।(what is smoking)
২। ধুমপান সম্পর্কে ধারণা। ধুমপান বাদ দেওয়ার পূর্বে আগে ভালোভাবে জানতে হবে একজন মানুষ কখন ধুমপান করে, কি কারণে ধুমপান করে, ধুমপান করার পর কি হয়, তারপর জানতে হবে কেন ধুমপান বাদ দেওয়া প্রয়োজন। অতঃপর নিজের মত করে পরিকল্পনা করে কাঙ্খিত লক্ষ্যে অগ্রসর হতে হবে। আশা করি আপনারাও এই নিয়ম মেনে চললে ধুমপান বাদ দিতে সক্ষম হবেন। (causes of smoking addiction)
৩। একজন ধুমপায়ী কখন ধুমপান করে? নিম্নলিখিত সময়/মুহুর্তে সাধারণত একজন ধুমপায়ী ধুমপান করে থাকেঃ (smoking addiction)
· সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে।
· সকালের নাস্তা করার পরে।
· দুপুরের খাবারের পরে।
· বিকালে।
· সন্ধ্যা বেলা।
· রাতের খাবারের পরে।
· রাতে ঘুমানোর আগে।
· যদি রাত জাগে সেক্ষেত্রে গভীর রাতে।
· আনন্দের মুহুর্তে।
· কষ্টের মুহুর্তে।
· টেনশনের মুহুর্তে।
· মানসিক চাপ থেকে মুক্তির জন্য।
· অলস সময়ে।
· অবসর সময়ে।
· বন্ধুদের আড্ডায়।
· সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে। ঘুম থেকে ওঠার পর নানা রকম দুঃশ্চিন্তা করে ফলে ধুমপানের উদ্রেগ হয়।
· সকালের নাস্তা করার পরে। নাস্তার পর অতিরিক্ত ভালো লাগার উদ্দেশ্যে ধুমপানের উদ্রেগ হয়।
· দুপুরের খাবারের পরে। অতিরিক্ত তৃপ্তি পাওয়ার আশায় ধুমপানের উদ্রেগ হয়।
· বিকালে ও সন্ধা বেলা। কিছুটা একাকিত্ব, অবসাদ, কাজের ব্যস্ততা কম থাকার কারণে মানসিক প্রশান্তির আশায় ধুমপানের উদ্রেগ হয়।
· রাতের খাবারের পরে। অতিরিক্ত তৃপ্তি পাওয়ার আশায় ধুমপানের উদ্রেগ হয়।
· রাতে ঘুমানোর আগে। নানা রকম দুঃশ্চিন্তা, ঘুম না আশা, আগামীকালের কাজের অগ্রিম চাপ ইত্যাদি কারণে মানসিক প্রশান্তির আশায় ধুমপানের উদ্রেগ হয়।
· যদি রাত জাগে সেক্ষেত্রে গভীর রাতে। অনেক রাত জাগলে গভীর রাতে ধুমপানের উদ্রেগ হয়।
· আনন্দের মুহুর্তে। যথন অনেক আনন্দে থাকা হয় তখন আনন্দটাকে আরো বৃদ্ধি আশায় অনেকের ধুমপানের উদ্রেগ হয়।
· কষ্টের মুহুর্তে। যথন মানুষ কোন কারণে খুব কষ্ট পায় তখন কষ্ট টাকে ভুলার জন্য ধুমপান করে।
· টেনশনের মুহুর্তে। যথন মানুষ কোন কারণে টেনশন করে তখন টেনশন থেকে পরিত্রাণের জন্য ধুমপান করে।
· মানসিক চাপ থেকে মুক্তির জন্য। অনেকে মানসিক চাপ হতে মুক্তির জন্য ধুমপান করে।
· অলস এবং অবসর সময়ে। মানুষ যখন কর্মহীন থেকে অলস এবং অবসর সময় কাটায় তখন ধুমপানের উদ্রেগ হয়।
· বন্ধুদের আড্ডায়। অনেকে বন্ধুদের আডায় ধুমপান করে।
৫। যখন ধুমপানের উদ্রেগ হয় তখন মানুষের শরীরের মধ্যে কি প্রতিক্রিয়া হয়? উল্লেখিত সময়/মুহুর্তে যথন মানুষের ধুমপানের উদ্রেগ হয় তখন তার শরীরের মধ্যে নিম্নলিখিত প্রতিক্রিয়া হয়ঃ (why do people smoke)
· হৃদ স্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেড়ে যায়, ফলে বুক ধরফর করে।
· পেটের মধ্যে হালকা মোচর দেয়।
· শরীরের বিভিন্ন পেশিগুলোর মধ্যে হালকা কামড় অনুভূত হয়, ফলে অস্বস্থি লাগে।
· মাথার মধ্যে হালকা ঘোরা অনুভূত।
· মনের মধ্যে ভয় ভাব অনুভুত হয়।
৬। ধুমপান করলে কি হয়? একজন ধুমযায়ী উল্লেখিত সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য ধুমপান করে। ফলে তার রক্তে নিকোটিন প্রবেশ করে এবং মস্তিস্ক কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে। ফলে সাময়িক ভাবে সে তার উল্লেখিত সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়েছে ভেবে প্রশমিত অনুভব করে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে দীর্ঘ মেয়াদে উক্ত ধুমপায়ী ধুমপানের ফলে কোন প্রশমন তো পাই না পক্ষান্তরে নানা শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক, সামাজিক ও আর্থিক নানাভাবে ব্যপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বিস্তারিত নিম্নে বর্ণনা করা হলোঃ (harmful effects of smoking essay)
ধুমপানের ফলে শারীরিক
ও মানসিক ক্ষতি।
·
ফুসফুসের সমস্যা।
·
হৃদপিন্ডের সমস্যা।
·
মস্তিস্কে সমস্যা।
·
স্টোক।
·
শ্বাস কস্ট।
·
ক্যান্সার।
·
ডাইবেটিস।
·
রক্তচাপ।
·
দাত ক্ষয়।
·
মুখে দুর্গন্ধ।
·
নিশ্বাসে দুর্গন্ধ।
·
শরীরে দুর্গন্ধ।
·
কফ সমস্যা।
·
ঠোট কালো হয়েছে যাওয়া।
·
শরীরের উজ্জলতা নষ্ট হয়ে যাওয়া।
·
স্মৃতি শক্তি কমে যাওয়া।
·
শরীরের কার্য ক্ষমতা কমে যাওয়া।
·
মস্তিস্কের কার্য ক্ষমতা কমে যাওয়া।
ধুমপানের ফলে পারিবারিক
ও সামাজিক ক্ষতি।
·
পারিবারিকভাবে স্ত্রী ও সন্তানের কাছে হীন হয়ে থাকা।
·
পরিবারের সকল সদস্যদের কাছে হীন হয়েছে থাকে।
·
ধুমপায়ী হওয়ার কারণে সামাজিকভাবে নানা সমস্যায় পরা।
·
ধুমপান করে অধুমপায়ী কাছাকাছি হলে নানা সমস্যার সম্মুখীন
হওয়া।
·
পারিবারিক ও সামাজিকভাবে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি পরিলক্ষিত
হওয়া।
ধুমপানের ফলে আর্থিক
ক্ষতি।
·
যারা ধুমপান করে তারা সর্বদা আর্থিক অনাটনে থাকে।
·
যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয় তার বিনিময়ে কোন রিটার্ণ আসেনা।
·
ধুমপানের কারণে আনুষংগিক আরোও অতিরিক্ত খরচ হয়।
· একজন ধুমপায়ী যদি প্রত্যেকদিন ১০০/১৫০ টাকার সিগারেট খায়
তার সাথে অতিরিক্ত তাকে চা/ কফি/ কোল্ড ড্রিংস/ যে কোন অপ্রয়োজনীয় খাবার খেতে হয়
ফলে আরও অতিরিক্ত ১০০/১৫০ টাকা খরচ হয়। মাস শেষে দেখা যায় একজন ধুমপায়ীকে অতিরিক্ত
ন্যূনতম ৬০০০ থেকে ৯০০০ টাকা বেশী খরচ হয়।
৭। ধুমপান কেন বাদ দিবেন? এখন একজন ধুমপায়ীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সে কেন ধুমপান বাদ দিবে। যদি একজন ধুমপায়ী উপরোক্ত আলোচনাটি সম্পূর্ণ ভালোভাবে বুঝে তার মস্তিস্ককে বোঝাতে সক্ষম হয় যে, ধুমপান করে কোন উপকার নেই, সম্পূর্ণ ক্ষতি তাহলে তার পক্ষে ধুমপান ত্যাগ করা একদম সহজ হয়ে যাবে। (reasons to stop smoking)
৮। কিভাবে ধুমপান বাদ দিবেন? (stages of quitting smoking contemplation)
Ø একজন ধুমপায়ীর যখন
ধুমপানের উদ্রেগ হয় তখন বৃহৎ পরিসরে নিম্নের ০৫ টি উপসর্গের যে কোন ০১/০২/০৩
উপসর্গ শরীরের মধ্যে অনুভব হয়। যা একজন মানুষ একটু সচেতন হলে খুব সহজে ধুমপান
পরিত্যাগ করতে পারবেঃ
· হৃদ স্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেড়ে যায়, ফলে বুক ধরফর করে।
· পেটের মধ্যে হালকা মোচর দেয়।
· শরীরের বিভিন্ন পেশিগুলোর মধ্যে হালকা কামড় অনুভূত হয়, ফলে অস্বস্থি লাগে।
· মাথার মধ্যে হালকা ঘোরা অনুভূত।
· মনের মধ্যে ভয় ভাব অনুভুত হয়।
Ø যখন উল্লেখিত
উপসর্গগুলো আসবে তখন সঙ্গে সঙ্গে পানি পান করতে হবে। কয়েকবার জোরো জোরে মুখ দিয়ে
নিশ্বাস নিয়ে আস্তে আস্তে নাক দিয়ে শ্বাস ছাড়তে হবে।
Ø সব সময় নিজেকে
টেনশন মুক্ত রাখা। যেকোন সমস্যা আসলে বিচলিত না হয়ে, সমস্যাটি
ভালোভাবে বুঝে সমাধানের পরিকল্পনা করা, নিজের সামর্থের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করা
এবং মহান সৃষ্টি কর্তার সাহায্য কামনা করা পরিশেষে নিজের মনকে বলা যে, আমার
সামর্থের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করেছি এজন্য টেনশন করে কোন লাভ হবেনা যেটা কপালে
আছে সেটা হবে।
Ø নিজের প্রতি
আত্মবিশ্বাস রাখা। বিভিন্ন
ধরণের মোটিভেশনাল ভিডিও লেখা পড়ে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করা।
Ø এন্টি স্মোকিং
এ্যাপ ব্যাবহার। গুগল প্লে
স্টোরে বিভিন্ন এন্টি স্মোকিং এ্যাপ আছে। এগুলো মোবাইলে ইনস্টল করে, নিজের বিভিন্ন
ডাটা এন্ট্রি করে বিভিন্ন স্ট্যাটিক দেখলে এবং নিজেদের আপন জন ও বন্ধুদের নিকট
শেয়ার করলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং সহায়ক হবে।
Ø ব্যায়াম। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। প্রথম দিকে বেশি
বেশি করে হাটা/দৌড় দিয়ে শরীর থেকে ঘাম ঝড়াতে হবে। ফলে শরীরের নিকটিন বেড়িয়ে যাবে
এবং উপসর্গগুলো আস্তে আস্তে চলে যাবে।
Ø ব্যস্ত রাখা। সব সময় কোন না কোন কাজে
নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে, যেমন এবাদত বন্দেগী করা, দোয়া দরুদ পড়া, বই পড়া, মোবাইলে
গেইম খেলা, নিউজ পড়া, টিভি দেখা, গান শোনা, নিজের প্রফেশনাল কাজ ইত্যাদি।
Ø বিকল্প কোন কিছু
না খাওয়া। সিগারেটের বিকল্প অন্য কোন নেশা যেমন পান,
সুপারী, জর্দা, গুল, পানপরাগ ইত্যাদি না খাওয়া।
Ø খাবার এর তৃপ্তি
সহকারে খাওয়া। যখন কোন খাবার খাবে তখন ধীরে
ধীরে খাবার খাওয়া, খাবার খাওয়ার সময় খাবারের স্বাদ অনুভব করা।
Ø নিজেকে ধন্যবাদ দেয়া। প্রত্যেকদিন নিজেকে সাহসী এবং ধৈর্য্যশীল বলে ধন্যবাদ দেয়া।
Ø সম মনা ব্যক্তি/আপন জনের সাথে শেয়ার করা।

0 Comments